ঢাকা   বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক রুপান্তর

কমলাপুর কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অনিকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

কমলাপুর কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অনিকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

ঢাকা আইসিডি কমলাপুর কাস্টম হাউসে কর্মরত সহকারী কমিশনার মোঃ আসিফ আহমেদ অনিকের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং কথিত দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি অনুসন্ধানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের কথা জানা গেছে

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সহকারী কমিশনারের দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে একটি কথিত দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। আমদানি করা পণ্য খালাসসহ কাস্টমসের বিভিন্ন কার্যক্রমে ওই চক্রের মাধ্যমে অনৈতিক অর্থ দাবি করা হয় বলে তাঁদের অভিযোগ। অর্থ দিতে অস্বীকার করলে ফাইল বা পণ্য ছাড়ের প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করা হয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা ব্যবসায়ীরা নিয়ম অনুযায়ী সরকারকে রাজস্ব দিতে আগ্রহী। কিন্তু কাস্টমস কার্যক্রমে অনৈতিক অর্থের দাবি করা হলে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েন।” তাঁর দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, সরকারি রাজস্ব আদায়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আরেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আইসিডিতে কোনো পণ্য আটকে গেলে বিভিন্ন পর্যায়ে অনৈতিক অর্থ দেওয়ার চাপ তৈরি করা হয়। তাঁর দাবি, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া জটিল করে পরে বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ কাজে একটি কথিত দালালচক্র যুক্ত রয়েছে এবং সহকারী কমিশনার অনিক নিজেই তাঁদের সঙ্গে রেখেছেন। ওই ব্যবসায়ীর ভাষ্য, কাস্টমসের বিভিন্ন কার্যক্রমে এই চক্র প্রভাব বিস্তার করে থাকে।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, মো. আসিফ আহমেদ অনিকের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে, যার একটি অংশ ঘুষের অর্থে গড়ে তোলা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। বিশেষ করে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জে তাঁর কথিত সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান ও যাচাই প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন। এসব দাবির পক্ষে কোনো নথি এই প্রতিবেদনে যাচাই করা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নথিপত্র, আর্থিক লেনদেন, সম্পদের বিবরণ এবং কাস্টমস কার্যক্রমের রেকর্ড যাচাই করা দরকার বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মো. আসিফ আহমেদ অনিক ৪০তম বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগ দেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গেজেটে তাঁর যোগদানের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০২২ উল্লেখ থাকলেও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে যোগদান ৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয় বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে এবং ব্যবসায়ীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে ১৯৮৭ সালে কমলাপুর আইসিডি নির্মাণ করা হয়। ফলে ঢাকাকেন্দ্রিক আমদানিকারকদের জন্য এই কাস্টম হাউসের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। পণ্য খালাসের ধাপে বিলম্ব বা জটিলতা তাই সরাসরি ব্যবসায়ীদের খরচ ও সময়ে প্রভাব ফেলে।

সাম্প্রতিক সময়ে এনবিআর খালাস প্রক্রিয়া সহজ করতে কিছু নির্দেশনাও দিয়েছে। সংস্থাটি কাস্টমস হাউস ও স্টেশনগুলোকে ১২ দফা জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে বলা হয়েছে নির্ধারিত বিধিমালার বাইরে আমদানিকারকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কাগজপত্র নেওয়া যাবে না। শুল্ক ফাঁকির নিশ্চিত তথ্য না থাকলে একই চালানের কায়িক পরীক্ষা বারবার করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া শুল্ক-কর অনলাইনে জমা দেওয়ার ‘এ-চালান’ সেবা কমলাপুর আইসিডিতে আগে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল। এতে করদাতারা ব্যাংক বা অনলাইনে অর্থ পরিশোধ করে রসিদ নম্বর দিয়ে পণ্য খালাস করতে পারেন। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য খালাস প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতি নিশ্চিত করা। তবে এসব ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনের অভিযোগগুলো যাচাই হয়নি।

অভিযোগগুলো নিয়ে সহকারী কমিশনার মো. আসিফ আহমেদ অনিকের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাঁর লিখিত বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

অভিযোগকারীদের মতে, আইসিডি কাস্টম হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠানে কোনো কর্মকর্তা বা কথিত দালালচক্রের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি কিংবা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁরা নথি, আর্থিক লেনদেন, পণ্য খালাসের রেকর্ড, মামলা-সংক্রান্ত তথ্য ও দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব দিতে চান এবং কাস্টমস কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হোক, এটাই চান। এ জন্য তাঁরা এনবিআর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, প্রয়োজনে নথিপত্র ও সম্পদের হিসাব যাচাইসহ নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রুপান্তর

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কমলাপুর কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অনিকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
ঢাকা আইসিডি কমলাপুর কাস্টম হাউসে কর্মরত সহকারী কমিশনার মোঃ আসিফ আহমেদ অনিকের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং কথিত দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সম্প্রতি অনুসন্ধানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের কথা জানা গেছেঅভিযোগকারীদের ভাষ্য, সহকারী কমিশনারের দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে একটি কথিত দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। আমদানি করা পণ্য খালাসসহ কাস্টমসের বিভিন্ন কার্যক্রমে ওই চক্রের মাধ্যমে অনৈতিক অর্থ দাবি করা হয় বলে তাঁদের অভিযোগ। অর্থ দিতে অস্বীকার করলে ফাইল বা পণ্য ছাড়ের প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করা হয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা ব্যবসায়ীরা নিয়ম অনুযায়ী সরকারকে রাজস্ব দিতে আগ্রহী। কিন্তু কাস্টমস কার্যক্রমে অনৈতিক অর্থের দাবি করা হলে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েন।” তাঁর দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, সরকারি রাজস্ব আদায়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।আরেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আইসিডিতে কোনো পণ্য আটকে গেলে বিভিন্ন পর্যায়ে অনৈতিক অর্থ দেওয়ার চাপ তৈরি করা হয়। তাঁর দাবি, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া জটিল করে পরে বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ কাজে একটি কথিত দালালচক্র যুক্ত রয়েছে এবং সহকারী কমিশনার অনিক নিজেই তাঁদের সঙ্গে রেখেছেন। ওই ব্যবসায়ীর ভাষ্য, কাস্টমসের বিভিন্ন কার্যক্রমে এই চক্র প্রভাব বিস্তার করে থাকে।অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, মো. আসিফ আহমেদ অনিকের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে, যার একটি অংশ ঘুষের অর্থে গড়ে তোলা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। বিশেষ করে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জে তাঁর কথিত সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান ও যাচাই প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন। এসব দাবির পক্ষে কোনো নথি এই প্রতিবেদনে যাচাই করা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নথিপত্র, আর্থিক লেনদেন, সম্পদের বিবরণ এবং কাস্টমস কার্যক্রমের রেকর্ড যাচাই করা দরকার বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মো. আসিফ আহমেদ অনিক ৪০তম বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগ দেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গেজেটে তাঁর যোগদানের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০২২ উল্লেখ থাকলেও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে যোগদান ৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয় বলে জানা গেছে।চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে এবং ব্যবসায়ীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে ১৯৮৭ সালে কমলাপুর আইসিডি নির্মাণ করা হয়। ফলে ঢাকাকেন্দ্রিক আমদানিকারকদের জন্য এই কাস্টম হাউসের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। পণ্য খালাসের ধাপে বিলম্ব বা জটিলতা তাই সরাসরি ব্যবসায়ীদের খরচ ও সময়ে প্রভাব ফেলে।সাম্প্রতিক সময়ে এনবিআর খালাস প্রক্রিয়া সহজ করতে কিছু নির্দেশনাও দিয়েছে। সংস্থাটি কাস্টমস হাউস ও স্টেশনগুলোকে ১২ দফা জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে বলা হয়েছে নির্ধারিত বিধিমালার বাইরে আমদানিকারকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কাগজপত্র নেওয়া যাবে না। শুল্ক ফাঁকির নিশ্চিত তথ্য না থাকলে একই চালানের কায়িক পরীক্ষা বারবার করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া শুল্ক-কর অনলাইনে জমা দেওয়ার ‘এ-চালান’ সেবা কমলাপুর আইসিডিতে আগে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল। এতে করদাতারা ব্যাংক বা অনলাইনে অর্থ পরিশোধ করে রসিদ নম্বর দিয়ে পণ্য খালাস করতে পারেন। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য খালাস প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতি নিশ্চিত করা। তবে এসব ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনের অভিযোগগুলো যাচাই হয়নি।অভিযোগগুলো নিয়ে সহকারী কমিশনার মো. আসিফ আহমেদ অনিকের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাঁর লিখিত বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।অভিযোগকারীদের মতে, আইসিডি কাস্টম হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠানে কোনো কর্মকর্তা বা কথিত দালালচক্রের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি কিংবা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁরা নথি, আর্থিক লেনদেন, পণ্য খালাসের রেকর্ড, মামলা-সংক্রান্ত তথ্য ও দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব দিতে চান এবং কাস্টমস কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হোক, এটাই চান। এ জন্য তাঁরা এনবিআর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, প্রয়োজনে নথিপত্র ও সম্পদের হিসাব যাচাইসহ নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হোক।

দৈনিক রুপান্তর

 

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত