ঢাকা   মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক রুপান্তর

২০০ টাকার নিচে নেই কোনো মাছ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসব শেষ হলেও নিত্যপণ্যের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই থেকে যাচ্ছে। মাছের বাজারে ২০০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো মাছ।অন্যদিকে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজিতে, আর ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৯৫ টাকা। বাজারে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ, বিপাকে পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দাম কমেছে ২০ টাকা।একইভাবে দাম কমেছে সোনালি জাতের মুরগিরও। এই জাতের মুরগি কিনতে ক্রেতাকে প্রতি কেজিতে গুনতে হচ্ছে ৩৪০ টাকা। এ ছাড়া গরুর মাংসের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৮০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে।মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙ্গাশ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ২৪০ থেকে ৩,৫০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে চিংড়ির দাম তুলনামূলক বেশি। আকার ও জাতভেদে চিংড়ি কিনতে প্রতি কেজিতে ক্রেতাদের খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে ব্রয়লার মুরগি কিনতে আসা ইদ্রিস মিয়া বলেন, “ব্রয়লার কিনতে এসে দেখি কেজি ১৯৫ টাকা দাম চাচ্ছে। দাম কিছুটা কমেছে। সোনালির বাজার তো আমাদের জন্য না। এটা শৌখিন মানুষের খাবারের কাতারে চলে গেছে। আমরা ব্রয়লারেই সন্তুষ্ট।”আরেক ক্রেতা শফিকুল আলম বলেন, “বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আরেকটু কমলে সবার কেনার সামর্থ্যের মধ্যে চলে আসবে। ঈদের সময় তো ২২০ টাকা কেজি কিনতে হয়েছে।”রাজধানীর রায়েরবাজারের ক্রেতা বজলুর রহমান বলেন, “রোজা ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের বাড়তি চাহিদার কারণে যে কটি পণ্যের দাম বেড়েছিল, তার মধ্যে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি অন্যতম। এসব পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায় ঈদের কয়েক দিন আগেই। ক্রেতাদের প্রত্যাশা ছিল, ঈদ শেষে এসব পণ্যের দাম আবার আগের জায়গায় নেমে আসবে। কিন্তু এসব পণ্য আগের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।” একই বাজারে মাছ ব্যবসায়ী সৌরভ আহমেদ বলেন, “মাছের বাজার আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজি মাছে ২০-৩০ টাকা কমেছে। আজকে এক কেজি পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করছি, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা। সব মাছ আগের মতোই আছে। আর মাছের বাজার ২০-৩০ টাকা ওঠানামা করেই থাকে।”
০৩ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক স্টিলথ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। তারা বলেছে, বিমানটি ইরানের মধ্যাঞ্চলের উড়ার সময় টার্গেট করা হয়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ তাদের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ তথ্য জানায়।পোস্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমানটি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস ও বিধ্বস্ত’ হয়েছে। বিমানটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় পাইলটের ব্যাপারে কোনো তথ্যই জানা যায়নি।ইরানের অপর বার্তাসংস্থা মেহের জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানটিতে পাইলট বের হতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ বিমানটিতে এতটাই দ্রুত বিধ্বস্ত হয়েছে যে তিনি আর বের হতে পারেননি।যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। যদিও এর আগে ইরানের বিমান ভূপাতিত করার দাবি অস্বীকার করেছিল তারা।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর তারা ইরানের আকাশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান নিয়ন্ত্রণ আবার কিছুটা ফিরে পেয়েছে বলে ধারণা করা হয়।সূত্র: আলজাজিরা
০৩ এপ্রিল ২০২৬

অফিস ৯টা থেকে ৪টা, ৬টায় মার্কেট বন্ধ: মন্ত্রিসভায় গুচ্ছ সিদ্ধান্ত

জ্বালানি সাশ্রয় এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনসহ একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধন ও ব্যয় সংকোচনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এবং সন্ধ্যা ৬টার পর সব বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখতে হবে।বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আজকের বৈঠকটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন এবং যাতায়াতের সময় বাঁচাতে ও যানজট এড়াতে এখানেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে জানানো উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:অফিস ও ব্যাংকের নতুন সময়সূচি:আগামী কার্যদিবস থেকে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ অফিসের সময় ১ ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে।এছাড়া ব্যাংকগুলো চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, তবে আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে বিকেল ৪টায় ব্যাংক বন্ধ হবে।বাজার ও বিপণিবিতান:জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সব মার্কেট, দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রাখতে হবে। তবে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান এবং খাবারের দোকানের মতো জরুরি সেবাগুলো এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। এটি কঠোরভাবে মনিটর করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন:শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক নির্দেশনা দেবে, যা আগামী রোববার থেকে কার্যকর হতে পারে। এছাড়া স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে এবং যানজট নিরসনে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ‘ইলেকট্রিক বাস’ আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। যে সব স্কুল এই উদ্যোগে অংশ নেবে তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে কোনো পুরোনো বাস আনা যাবে না।ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্রসাধন:সরকারের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বাজেট থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস পর্যন্ত সরকারি কোনো নতুন গাড়ি (সড়ক, নৌ বা আকাশযান) এবং কম্পিউটার সামগ্রী কেনা যাবে না। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের সব বিদেশ ভ্রমণ এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন খরচও ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা:জ্বালানি সংকটের এই সময়ে কোনো ধরনের বেসরকারি বিয়ে বা উৎসব-অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।আইন সংশোধন:বৈঠকে ‘পাবলিক এক্সামিনেশন অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’ এর খসড়া অনুমোদিত হয়েছে। ১৯৮০ সালের এই আইনটি সংশোধন করে পাবলিক পরীক্ষায় অপরাধের বিচার আরও কঠোর করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।জ্বালানি সরবরাহ:মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ লাইন কিছুটা ইনসিকিউর হয়ে পড়ায় সরকার বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সচিব জানান।তিনি আরও বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
০৩ এপ্রিল ২০২৬
বিদেশে কর অব্যাহতি, বাংলাদেশে বাড়ছে বোঝা: সংকটে দেশের পোল্ট্রি শিল্প

বিদেশে কর অব্যাহতি, বাংলাদেশে বাড়ছে বোঝা: সংকটে দেশের পোল্ট্রি শিল্প

যেখানে ডাল-ভাতের পর সাধারণ মানুষের প্রোটিনের শেষ আশ্রয় ছিল একটি ডিম বা ব্রয়লার মুরগি, সেখানে করের বোঝা আর ফিডের আকাশচুম্বী দামের চাপে সেই শিল্পই এখন ধ্বংসের মুখে। ৫০ হাজার কোটি টাকার এই বিনিয়োগ এখন খাদের কিনারে, যার পতন ঘটলে পুষ্টিহীনতায় পড়বে পুরো একটি প্রজন্ম। গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে দেশের এই পোল্ট্রি খাতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরচ বেড়েছে চলতি বছরে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে তৃণমূল খামারে। ব্যয়ের সাথে আয়ের অঙ্ক না মেলায় খামার বন্ধ করে বেকার হয়ে পড়ছেন হাজার হাজার খামারি। চলতি বাজেটে একলাফে করপোরেট কর ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধিসহ সব ধরনের কর ও শুল্ক বাড়িয়ে দেয়ায় দফায় দফায় পোল্ট্রির খাদ্যসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সার্বিক দিক দিয়ে বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের উদীয়মান এ পোল্ট্রি শিল্প। এদিকে বাংলাদেশের আশপাশে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ভিন্ন পরিস্থিতি। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পোল্ট্রি খাতে করপোরেট কর এখন সবচেয়ে বেশি। ২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, নেপাল, ভারত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পোল্ট্রি ও পশুখাদ্য খাতে কর ও শুল্ক সুবিধার তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। আসন্ন বাজেটে পোল্ট্রির শিল্পের ওপর করের বোঝা কমিয়ে অর্ধেকে নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন খাত বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, পোল্ট্রির এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো বাজেটে পোল্ট্রি খাতের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ও কর অব্যাহতি সুবিধা রাখা। আয়কর, আমদানি শুল্ক ও অগ্রিম আয়করে (এআইটি) সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রান্তিক খামারিদের জন্য সহায়ক বাজেট ব্যবস্থাপনা এখন জরুরি। সতর্ক করে তাঁরা জানান, বাজেটে ভালো ব্যবস্থাপনা না থাকলে সাধারণ মানুষের সহজলভ্য প্রোটিনের সবচেয়ে বড় উৎস পোল্ট্রি শিল্প খাদের কিনারে গিয়ে পড়বে। বড় বড় করপোরেট কোম্পানির অধীনে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কিনতে হতে পারে দ্বিগুণ দামে ডিম, মুরগি। খামারিরা জানান, বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে খরচ হয় সাড়ে ১০ থেকে ১১ টাকা, অথচ পাইকারি বাজারে অনেক সময় সেটি সাড়ে ৭ থেকে সাড়ে ৮ টাকায় বিক্রি করতে হয়। অন্যদিকে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, যেখানে পাইকারি দাম থাকে ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা। এই অবস্থায় উৎপাদন খরচ কমানো ছাড়া টিকে থাকা অসম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা। ২০ বছর ধরে পোল্ট্রি খামার পরিচালনা করে আসা টাঙ্গাইল জেলার খামারি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক মাসে বারবার খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এত বেশি লোকসান দিতে হচ্ছে যা আগে কখনও দিতে হয়নি। এটা দেখার কেউ নেই। আজ মুরগি ও ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার মতো কেউ নেই। এত অবহেলা আর বঞ্চনা আর কোনো খাতে নেই। এত লোকসান দিচ্ছি যে তা বলা বাহুল্য। বারবার খাদ্যের দাম বাড়ার সাথে আমাদের উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কিন্তু সরকার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। আমরা খুবই আশাহত হয়ে পড়েছি। ডিম ও মুরগি উৎপাদন করতে যা খরচ হয়েছে, সরকার অন্তত সেটি নিশ্চিত করুক। নইলে আমাদের বলুক এই শিল্পে থাকার দরকার নেই। কিন্তু এভাবে যেন নিঃস্ব করে না দেয়। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রিপন কুমার মন্ডল বলেন, পোল্ট্রি শিল্প বাঁচাতে চাইলে প্রথমে খাদ্যের দাম কমাতে হবে। কেননা খামারির মোট খরচের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই হয় খাদ্য কেনায়। কম দামে খামারিদের খাদ্য দিতে হলে খাদ্যের উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। খাদ্য উৎপাদনের উপকরণ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আপনাকে আয়কর ও শুল্ক কমাতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা জরুরি। এর পাশাপাশি দেশীয় খাদ্য উৎপাদনে উদ্যোক্তা তৈরি করে তাদের যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কছাড়সহ নানা সুবিধা দেওয়ার পরামর্শ দেন এই অধ্যাপক। বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এ থেকে উত্তরণের এটিই একমাত্র পথ। যদি এর সমাধান না হয় তাহলে সহজলভ্য প্রাণিজ আমিষের এই উৎসটি গভীর সংকটে পড়তে পারে। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী জানান, বিশ্বের কোথাও খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কোনো খাতের সাথে এত উচ্চ কর নেই। বরং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কর অব্যাহতি দিয়ে উদ্যোক্তা ও খামারিদের সহায়তা দিয়ে থাকে। অথচ কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে আমরা উল্টোটা করছি। এটার প্রভাব কিন্তু ইতিমধ্যে উৎপাদনকারীদের ওপর পড়া শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে এই প্রভাব বাজার ও ভোক্তাদের ওপর পড়বে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের সুরক্ষা এবং পোল্ট্রি শিল্পকে এগিয়ে নিতে বর্তমানের কর ও শুল্ক অর্ধেকে নামিয়ে নিয়ে আসা জরুরি। নইলে প্রান্তিক খামারিদের আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। আর প্রান্তিক খামারি না থাকলে এ শিল্প পুরোটাই বড় করপোরেট কোম্পানির অধীনে চলে যাবে। তখন ওইসব করপোরেট কোম্পানির বেঁধে দেয়া দামেই ভোক্তাদের মাছ, ডিম, মুরগি ও মাংস কিনে খেতে হবে। তিনি বলেন, গত ৫ বছর ধরে নানা চড়াই-উতরাই পার করে পোল্ট্রি শিল্প টিকে আছে। করোনা পরবর্তী বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি আমাদের এই খাতকে আরো বেশি দুর্বিষহের মধ্যে নিয়ে গেছে। এরপর চলতি বছরে প্রায় দ্বিগুণ কর ও শুল্ক চাপিয়ে দেয়া হয়। করপোরেট কর ১৫% থেকে বাড়িয়ে ২৭.৫% করা হয়েছে যা একেবারেই অযৌক্তিক। এআইটি ১ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। টার্নওভার কর ০.৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। এভাবে আমাদের ওপর গত বছর করের বোঝা জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়। এর প্রভাব কিন্তু সরাসরি তৃণমূল খামারিদের ওপর গিয়ে পড়েছে। খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম, মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে। মাসের পর মাস লোকসানের ঘানি টানছেন লাখ লাখ খামারি। আপনি গ্রামে গেলে দেখতে পাবেন তৃণমূল খামারিরা কী করুণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের বড় একটি অংশ তরুণ উদ্যোক্তা। খামার বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো এই বিশাল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হারানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ধস নামা। এ সময়ে তিনি খামারিদের পণ্য বিক্রিতে ট্যাক্স ও ভ্যাট রাখা যাবে না, খামার থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায়ে বাজারে ডিম বিক্রি পর্যন্ত যেসব মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজি চলছে তা বন্ধ করতে হবে, বিদ্যুতের ভর্তুকিসহ সহজ শর্তে ঋণ এবং সরকারের কৃষক কার্ডে খামারিদের অগ্রাধিকার দেয়ার দাবি জানান। পরামর্শ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াছ হোসেন মনে করেন, চলতি অর্থবছরে পোল্ট্রি খাতে সব ধরনের কর ও শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, যার প্রভাব ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারকে সব ধরনের কর ও শুল্কে নমনীয় হতে হবে। তাঁর মতে, টার্নওভার কর ০.২ শতাংশে নামিয়ে এনে মোট মুনাফার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে এবং করপোরেট ট্যাক্স ১০ শতাংশে নামিয়ে আনলে বড় উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়বে। এআইটি ১ শতাংশ করার পাশাপাশি টাকা ফেরতের জটিলতা নিরসন ও টিডিএস কমানো দরকার বলেও মনে করেন তিনি। বিপিআইএ এর মহাসচিব ও তরুণ উদ্যোক্তা মো. সাফির রহমান বলেন, সরকার যদি আগামী বাজেটে পোল্ট্রি শিল্পে বিশেষ সুবিধা না দেয় তাহলে এ খাতে আর কেউ বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাবে না। নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে না। যারা আছেন তারা বিকল্প খাতে চলে যাবেন। সব মিলিয়ে গভীর সঙ্কটে পরে যাবে সম্ভাবনাময় খাতটি। লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পরবেন। তিনি আরও বলেন, পোল্ট্রি শিল্পকে শুধুমাত্র একটি ব্যবসা হিসেবে না দেখে একে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার স্তম্ভ হিসেবে দেখা উচিত। আগামী বাজেটে করের বোঝা না কমলে ডিম-মুরগি শুধু বড়লোকের খাবারে পরিণত হবে, যা একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য কাম্য নয়। পশু খাদ্য ও পোল্ট্রি খাতে কোন দেশে কর ও শুল্কে কী সুবিধা: ২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ফিড মিলগুলো টার্নওভারের ভিত্তিতে মাত্র সাড়ে ৭ থেকে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে থাকে। থাইল্যান্ডে বিনিয়োগ বোর্ডের অধীনে পশুখাদ্য শিল্প পাঁচ থেকে আট বছরের জন্য শতভাগ কর অব্যাহতি পায়। মালয়েশিয়া পশুখাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে সেলস ট্যাক্স পুরোপুরি প্রত্যাহার করেছে এবং নতুন ফিড শিল্পকে ১০ বছর পর্যন্ত ১০০ শতাংশ কর অব্যাহতি দেয়। নেপাল পশুখাদ্যের ভিটামিন, অ্যামিনো অ্যাসিড ও খনিজ উপাদান আমদানিতে পাঁচ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিয়েছে। ভারতে সাধারণ আমদানিতে কোনো অগ্রিম আয়কর নেই এবং সেখানে ২০২৬ সালে কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর থেকে টিসিএস পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে পশুখাদ্য আমদানিতে এখনও পাঁচ শতাংশ অগ্রিম কর বহাল রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ সরকারের নজর দেওয়া এখন জরুরি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও পোল্ট্রির খাতসমূহের সংগঠন ও খামারিদের দেয়া তথ্যে মতে, গত পাঁচ বছরে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কমেছে প্রবৃদ্ধি হার। ২০২১ প্রবৃদ্ধি হার ৪.৫% ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ১০০ কে ভিত্তি ধরে হিসাব করলে দেখা যায়, ২০২২ প্রবৃদ্ধি হার ৫.২% হয়েছে এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে ১১৫ শতাংশ, ২০২৩ প্রবৃদ্ধি হার ৩.৮% হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ১৪৫ শতাংশ, ২০২৪ সালে প্রবৃদ্ধি হার ৩.৫% ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭০ শতাংশ, ২০২৫ (প্রাক্কলিত) প্রবৃদ্ধি হার ৩.২% ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯০ শতাংশ।
০৮ এপ্রিল ২০২৬
রাজনীতি

রাজনীতি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে অন্য গণ-আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়: মাহফুজ আলম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে অন্য গণ-আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়: মাহফুজ আলম

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে যেমন ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে তুলনা করা ভুল হবে, তেমনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্য সকল অভ্যুত্থান আর গণ-আন্দোলনের সাথে তুলনা করার ভুল করা উচিত নয়।’গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় এ রাষ্ট্রের খোলনলচে বদলে দেয়ার জন্য দ্বিতীয় আরেকটি প্রচেষ্টা। যা ব্যর্থ হয়েছে বলার মতন সময় এখনো আসেনি।তিনি লিখেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একদফা ঘোষণায় রাষ্ট্রের সংস্কার, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ এবং নূতন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবি ছিল। কি হয়েছে, হয়নি সে তর্ক দূরে রেখেই বলা যায় এ রকম সামগ্রিক ফ্যাসিবাদবিরোধী রাষ্ট্রকল্প অন্য কোন অভ্যুত্থান বা আন্দোলনে উত্থাপিত হয়নি। আর, কোন গণ-অভ্যুত্থান এত বড় কল্পনা এবং বিস্তৃতি ধারণ করতে পারেনি। অবশ্যই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সকল গণতান্ত্রিক-সাংস্কৃতিক লড়াই থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়েছে।মাহফুজ আরও লিখেছেন, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙ্গালির দীর্ঘ উপনিবেশবিরোধী লড়াইয়ের চূড়ান্ত মুহূর্ত। পূর্ব পাকিস্তান আন্দোলনের নেতা-কর্মীরাই শেষতক পাকিস্তানের উপনিবেশবাদী সামরিকতন্ত্র এবং সামন্তবাদী নাইট-নবাব-আশরাফদের পরাস্ত করেছে। ফলে, সকল ঐতিহাসিক ঘটনাকে এ জাতির চলমান লড়াই হিসাবে দেখলেই সব প্রজন্মের জন্য ভালো।সবশেষে মাহফুজ আলম লিখেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রগঠনের লড়াইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কোন তুলনা নাই।
০৩ এপ্রিল ২০২৬
বিনোদন

বিনোদন

কোন পোস্ট নেই !
অনলাইন জরিপ

অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
সারাদেশ

সারাদেশ

মধুখালীতে কথিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ

মধুখালীতে কথিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ

ফরিদপুরের মধুখালীতে কথিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবার। ফেসবুক পেজ ‘শুকতারা টিভি’র প্রোপাইটর মোঃ জুয়েল শরীফ এবং ‘এস এ টিভি’র প্রোপাইটর মোঃ রাকিবুল হাসান মিঠুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে।শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী রেলগেট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী নারী-পুরুষসহ স্থানীয় শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী মোছাঃ কাকলি বেগম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা তার কাছে এসে অর্থ দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ফেসবুক পেজে মিথ্যা ও বানোয়াট ভিডিও প্রচার করে।এসময় আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী একই ধরনের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মোঃ গোলাম সরাফত শরৎ, দেবজিত দাস, মোঃ শাকিল, সুজন কর্মকার, মোঃ আলিফ এবং মোঃ ইলিয়াস হোসেন। বক্তারা দাবি করেন, অভিযুক্তদের এমন কর্মকাণ্ডে প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তারা এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, মধুখালীতে প্রকৃত সাংবাদিকদের পাশে আমরা সবসময় আছি  এবং থাকবো। পাশাপাশি এ ধরনের ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
১০ এপ্রিল ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

বিনোদন

বিনোদন

কোন পোস্ট নেই !
সারাদেশ

সারাদেশ

মধুখালীতে কথিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ

মধুখালীতে কথিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ

ফরিদপুরের মধুখালীতে কথিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবার। ফেসবুক পেজ ‘শুকতারা টিভি’র প্রোপাইটর মোঃ জুয়েল শরীফ এবং ‘এস এ টিভি’র প্রোপাইটর মোঃ রাকিবুল হাসান মিঠুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে।শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী রেলগেট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী নারী-পুরুষসহ স্থানীয় শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী মোছাঃ কাকলি বেগম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা তার কাছে এসে অর্থ দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ফেসবুক পেজে মিথ্যা ও বানোয়াট ভিডিও প্রচার করে।এসময় আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী একই ধরনের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মোঃ গোলাম সরাফত শরৎ, দেবজিত দাস, মোঃ শাকিল, সুজন কর্মকার, মোঃ আলিফ এবং মোঃ ইলিয়াস হোসেন। বক্তারা দাবি করেন, অভিযুক্তদের এমন কর্মকাণ্ডে প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তারা এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, মধুখালীতে প্রকৃত সাংবাদিকদের পাশে আমরা সবসময় আছি  এবং থাকবো। পাশাপাশি এ ধরনের ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
০২ মে ২০২৫
প্রবাসী ফুটবলার ফাহামিদুলের সঙ্গে সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন শ্রাবণ

প্রবাসী ফুটবলার ফাহামিদুলের সঙ্গে সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন শ্রাবণ

০২ মে ২০২৫
সারাদেশ

সারাদেশ

মধুখালীতে কথিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ

মধুখালীতে কথিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ

ফরিদপুরের মধুখালীতে কথিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবার। ফেসবুক পেজ ‘শুকতারা টিভি’র প্রোপাইটর মোঃ জুয়েল শরীফ এবং ‘এস এ টিভি’র প্রোপাইটর মোঃ রাকিবুল হাসান মিঠুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে।শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী রেলগেট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী নারী-পুরুষসহ স্থানীয় শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী মোছাঃ কাকলি বেগম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা তার কাছে এসে অর্থ দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ফেসবুক পেজে মিথ্যা ও বানোয়াট ভিডিও প্রচার করে।এসময় আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী একই ধরনের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মোঃ গোলাম সরাফত শরৎ, দেবজিত দাস, মোঃ শাকিল, সুজন কর্মকার, মোঃ আলিফ এবং মোঃ ইলিয়াস হোসেন। বক্তারা দাবি করেন, অভিযুক্তদের এমন কর্মকাণ্ডে প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তারা এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, মধুখালীতে প্রকৃত সাংবাদিকদের পাশে আমরা সবসময় আছি  এবং থাকবো। পাশাপাশি এ ধরনের ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
১০ এপ্রিল ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

মধুখালীতে কথিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ

মধুখালীতে কথিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ

ফরিদপুরের মধুখালীতে কথিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবার। ফেসবুক পেজ ‘শুকতারা টিভি’র প্রোপাইটর মোঃ জুয়েল শরীফ এবং ‘এস এ টিভি’র প্রোপাইটর মোঃ রাকিবুল হাসান মিঠুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে।শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী রেলগেট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী নারী-পুরুষসহ স্থানীয় শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী মোছাঃ কাকলি বেগম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা তার কাছে এসে অর্থ দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ফেসবুক পেজে মিথ্যা ও বানোয়াট ভিডিও প্রচার করে।এসময় আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী একই ধরনের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মোঃ গোলাম সরাফত শরৎ, দেবজিত দাস, মোঃ শাকিল, সুজন কর্মকার, মোঃ আলিফ এবং মোঃ ইলিয়াস হোসেন। বক্তারা দাবি করেন, অভিযুক্তদের এমন কর্মকাণ্ডে প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তারা এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, মধুখালীতে প্রকৃত সাংবাদিকদের পাশে আমরা সবসময় আছি  এবং থাকবো। পাশাপাশি এ ধরনের ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
০২ মে ২০২৫
সারাদেশ

সারাদেশ

মধুখালীতে কথিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ

মধুখালীতে কথিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ

ফরিদপুরের মধুখালীতে কথিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবার। ফেসবুক পেজ ‘শুকতারা টিভি’র প্রোপাইটর মোঃ জুয়েল শরীফ এবং ‘এস এ টিভি’র প্রোপাইটর মোঃ রাকিবুল হাসান মিঠুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে।শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী রেলগেট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী নারী-পুরুষসহ স্থানীয় শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী মোছাঃ কাকলি বেগম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা তার কাছে এসে অর্থ দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ফেসবুক পেজে মিথ্যা ও বানোয়াট ভিডিও প্রচার করে।এসময় আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী একই ধরনের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মোঃ গোলাম সরাফত শরৎ, দেবজিত দাস, মোঃ শাকিল, সুজন কর্মকার, মোঃ আলিফ এবং মোঃ ইলিয়াস হোসেন। বক্তারা দাবি করেন, অভিযুক্তদের এমন কর্মকাণ্ডে প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তারা এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, মধুখালীতে প্রকৃত সাংবাদিকদের পাশে আমরা সবসময় আছি  এবং থাকবো। পাশাপাশি এ ধরনের ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক