ঢাকা   মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক রুপান্তর

আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক: ত্যাগীরা বঞ্চিত, বিতর্কিতদের পদ পাওয়ার গুঞ্জন

আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক: ত্যাগীরা বঞ্চিত, বিতর্কিতদের পদ পাওয়ার গুঞ্জন

২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করে এবং নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। ফলে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ২২তম জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কমিটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।


তবে ২০২৬ সালে নতুন কমিটি গঠনের চিন্তা করছে দলটি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। নতুন কমিটিতে কারা আসছেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

ঢাকা মহানগর উত্তরের ১৩ আসনকেন্দ্রিক আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে বেশ কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তির নাম আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে ভূমিদস্যু, হত্যা মামলার আসামি, মাদকসেবন ও একাধিক মামলার আসামিদের পদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, শেরেবাংলা নগর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আরিফুর ইসলাম হৃদয় এবং সভাপতি পদে রোচক লিটনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া শেরেবাংলা নগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে সাবেক কাউন্সিলর ফোরকান হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে হীরকের নাম শোনা যাচ্ছে।


মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে তারিকুজ্জামান রাজীব এবং সভাপতি পদে এম এ সাত্তারের নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে আদাবর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আবুল হাসেম (হাসু) এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আরিফুর রহমান তুহিনের নাম নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে।

শেরেবাংলা নগরের আরিফুর ইসলাম হৃদয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার মাদক সেবনের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তৎকালীন ছাত্রলীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ইয়াব সেবনের ভিডিওটি এই প্রতিনিধির হাতেও রয়েছে। তিনি শেরেবাংলা নগর থানার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করলেও তাকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করার গুঞ্জন উঠেছে। জানা গেছে তিনি নাকি এই ওয়ার্ডের ভোটারওনা।

স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, তাকে এ পদে আনা হলে তারা তা মেনে নেবেন না। তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। তিনি শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং একাধিক মামলার আসামি বলে জানা গেছে।

এদিকে ফোরকান হোসেনের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তিনি একসময় মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ মিন্টুর ম্যানেজার ছিলেন। এছাড়া হত্যা মামলাসহ আওয়ামিলীগ নেতা, ফজলু হত্যা মামলার আসামি হিসেবেও তার নাম রয়েছে এক নম্বরে। এছাড়াও সেই মামালায় জেলে ছিলো ফোরকান, বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগও রয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, তাকে নেতৃত্বে মেনে নেওয়া হবে না। 

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা হীরকের বিরুদ্ধেও রয়েছে অভিযোগ।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, এসব ব্যক্তিকে কোনো ধরনের দলীয় পদ দেওয়া হলে শেরেবাংলা নগর থানা ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবেন না। এছাড়া ফোরকান হোসেনের ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধেও একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে, যা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দুই ভাই মিলে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চাঁদাবাজির অর্থ ভাগাভাগি করতেন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করতেন।

মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা তারিকুজ্জামান রাজীব ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, জাহাঙ্গীর কবির নানকের সমর্থনে তৎকালীন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমানকে ভোট কারচুপির মাধ্যমে পরাজিত করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এছাড়া মাদক মামলা ও ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে তিনি সাড়ে তিন বছর কারাভোগ করেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ছাত্র হত্যা মামলায় ভারতে পলাতক রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের চারটি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও ১০ থেকে ১৫টি মামলা চলমান রয়েছে, যেগুলোতেও চার্জশিট হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

আদাবর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা আবুল হাসেম (হাসু)-এর বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। এছাড়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওহিদ হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি তিনি। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রায় ১২টি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা আরিফুর রহমান তুহিনের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে সিলিকন সিটিতে দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাভার থানার মামলায় তিনি এক নম্বর আসামি বলে জানা গেছে। এছাড়া ২০১৮ সালে সাদেক খানের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আদাবর এলাকায় জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাদেক খান গ্রুপের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও তিনি এক নম্বর আসামি বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা এই প্রতিবেদককে জানান, নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদ দিতে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন এবং বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন—এমন ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে হত্যা, ভূমিদস্যুতা ও মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কমিটিতে আনার জন্য নানকপন্থী একটি গ্রুপ দৌড়ঝাঁপ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রুপান্তর

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক: ত্যাগীরা বঞ্চিত, বিতর্কিতদের পদ পাওয়ার গুঞ্জন

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image
২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করে এবং নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। ফলে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ২২তম জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কমিটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।তবে ২০২৬ সালে নতুন কমিটি গঠনের চিন্তা করছে দলটি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। নতুন কমিটিতে কারা আসছেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।ঢাকা মহানগর উত্তরের ১৩ আসনকেন্দ্রিক আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে বেশ কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তির নাম আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে ভূমিদস্যু, হত্যা মামলার আসামি, মাদকসেবন ও একাধিক মামলার আসামিদের পদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।জানা গেছে, শেরেবাংলা নগর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আরিফুর ইসলাম হৃদয় এবং সভাপতি পদে রোচক লিটনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া শেরেবাংলা নগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে সাবেক কাউন্সিলর ফোরকান হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে হীরকের নাম শোনা যাচ্ছে।মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে তারিকুজ্জামান রাজীব এবং সভাপতি পদে এম এ সাত্তারের নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে আদাবর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আবুল হাসেম (হাসু) এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আরিফুর রহমান তুহিনের নাম নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে।শেরেবাংলা নগরের আরিফুর ইসলাম হৃদয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার মাদক সেবনের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তৎকালীন ছাত্রলীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ইয়াব সেবনের ভিডিওটি এই প্রতিনিধির হাতেও রয়েছে। তিনি শেরেবাংলা নগর থানার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করলেও তাকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করার গুঞ্জন উঠেছে। জানা গেছে তিনি নাকি এই ওয়ার্ডের ভোটারওনা।স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, তাকে এ পদে আনা হলে তারা তা মেনে নেবেন না। তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। তিনি শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং একাধিক মামলার আসামি বলে জানা গেছে।এদিকে ফোরকান হোসেনের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তিনি একসময় মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ মিন্টুর ম্যানেজার ছিলেন। এছাড়া হত্যা মামলাসহ আওয়ামিলীগ নেতা, ফজলু হত্যা মামলার আসামি হিসেবেও তার নাম রয়েছে এক নম্বরে। এছাড়াও সেই মামালায় জেলে ছিলো ফোরকান, বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগও রয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, তাকে নেতৃত্বে মেনে নেওয়া হবে না। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা হীরকের বিরুদ্ধেও রয়েছে অভিযোগ।তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, এসব ব্যক্তিকে কোনো ধরনের দলীয় পদ দেওয়া হলে শেরেবাংলা নগর থানা ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবেন না। এছাড়া ফোরকান হোসেনের ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধেও একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে, যা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দুই ভাই মিলে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চাঁদাবাজির অর্থ ভাগাভাগি করতেন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করতেন।মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা তারিকুজ্জামান রাজীব ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, জাহাঙ্গীর কবির নানকের সমর্থনে তৎকালীন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমানকে ভোট কারচুপির মাধ্যমে পরাজিত করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এছাড়া মাদক মামলা ও ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে তিনি সাড়ে তিন বছর কারাভোগ করেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ছাত্র হত্যা মামলায় ভারতে পলাতক রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের চারটি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও ১০ থেকে ১৫টি মামলা চলমান রয়েছে, যেগুলোতেও চার্জশিট হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।আদাবর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা আবুল হাসেম (হাসু)-এর বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। এছাড়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওহিদ হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি তিনি। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রায় ১২টি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা আরিফুর রহমান তুহিনের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে সিলিকন সিটিতে দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাভার থানার মামলায় তিনি এক নম্বর আসামি বলে জানা গেছে। এছাড়া ২০১৮ সালে সাদেক খানের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আদাবর এলাকায় জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাদেক খান গ্রুপের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও তিনি এক নম্বর আসামি বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।তৃণমূল নেতাকর্মীরা এই প্রতিবেদককে জানান, নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদ দিতে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন এবং বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন—এমন ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে হত্যা, ভূমিদস্যুতা ও মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কমিটিতে আনার জন্য নানকপন্থী একটি গ্রুপ দৌড়ঝাঁপ করছে।

দৈনিক রুপান্তর

 

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত