ঢাকা   শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক রুপান্তর

বিসিএস সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৩ সরকারি চাকরিজীবী গ্রেপ্তার

বিসিএস সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৩ সরকারি চাকরিজীবী গ্রেপ্তার
পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে গ্রেফতার

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি ও জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিন সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত একজন রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তাররা হলেন— নুরন্নবী (৫৫), মো. সোহেল (৪০) ও জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান (২৯)। নুরন্নবী ও মো. সোহেল কর অঞ্চল-২, বিভাগীয় কর কমিশনারের কার্যালয়, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রামে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে জুলফিকার আলী বর্তমানে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব এসব তথ্য জানান।
আবু তালেব বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অনুমোদনের ভিত্তিতে কর অঞ্চল-নোয়াখালীতে গ্রেড-১৩ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়। গত ৫ জুন নোয়াখালীর তিনটি কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে প্রাথমিকভাবে ১১২ জন প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয়। পরে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় কয়েকজন প্রার্থীর হাতের লেখায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের একপর্যায়ে অফিস সহায়ক পদে মনোনীত মো. কামাল উদ্দিন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে মনোনীত মো. নাসফুরুল্লাহর আবেদনপত্র ও মৌখিক পরীক্ষার সময় পূরণ করা চেকলিস্টের হাতের লেখার মধ্যে অমিল পাওয়া যায়। পরে তাদের পুনরায় লিখতে দিলে অসঙ্গতি আরও স্পষ্ট হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় তাদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২২ জুন পুনরায় যাচাইকালে মো. সুজনের হাতের লেখায়ও অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা রাশেদ উদ্দিন কৌশলে পালিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে সুজনও প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
আবু তালেব আরও বলেন, এ ঘটনায় মো. কামাল উদ্দিন, মো. নাসফুরুল্লাহ ও মো. সুজনের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও সহায়তার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় শুরু থেকেই সিআইডির নোয়াখালী জেলা ইউনিট ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর হলে তদন্তভার গ্রহণ করা হয়।
আবু তালেব বলেন, তদন্তে গ্রেপ্তার তিন আসামির দেওয়া তথ্য ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের অস্তিত্বের তথ্য পাওয়া যায়। চক্রের সদস্যরা অর্থের বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ করে বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রকৃত প্রার্থীদের পরিবর্তে অংশগ্রহণ করাতেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা সরকারি চাকরির নিয়োগে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুলাই পৃথক অভিযানে নুরন্নবী ও মো. সোহেলকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কর অঞ্চল-২ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় জুলফিকার আলী ওরফে রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানায়, এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সিআইডির অভিযান চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রুপান্তর

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬


বিসিএস সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৩ সরকারি চাকরিজীবী গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি ও জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিন সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত একজন রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিজ্ঞাপন গ্রেপ্তাররা হলেন— নুরন্নবী (৫৫), মো. সোহেল (৪০) ও জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান (২৯)। নুরন্নবী ও মো. সোহেল কর অঞ্চল-২, বিভাগীয় কর কমিশনারের কার্যালয়, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রামে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে জুলফিকার আলী বর্তমানে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব এসব তথ্য জানান। আবু তালেব বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অনুমোদনের ভিত্তিতে কর অঞ্চল-নোয়াখালীতে গ্রেড-১৩ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়। গত ৫ জুন নোয়াখালীর তিনটি কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে প্রাথমিকভাবে ১১২ জন প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয়। পরে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় কয়েকজন প্রার্থীর হাতের লেখায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বিজ্ঞাপন তিনি বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের একপর্যায়ে অফিস সহায়ক পদে মনোনীত মো. কামাল উদ্দিন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে মনোনীত মো. নাসফুরুল্লাহর আবেদনপত্র ও মৌখিক পরীক্ষার সময় পূরণ করা চেকলিস্টের হাতের লেখার মধ্যে অমিল পাওয়া যায়। পরে তাদের পুনরায় লিখতে দিলে অসঙ্গতি আরও স্পষ্ট হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় তাদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২২ জুন পুনরায় যাচাইকালে মো. সুজনের হাতের লেখায়ও অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা রাশেদ উদ্দিন কৌশলে পালিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে সুজনও প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। আবু তালেব আরও বলেন, এ ঘটনায় মো. কামাল উদ্দিন, মো. নাসফুরুল্লাহ ও মো. সুজনের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও সহায়তার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় শুরু থেকেই সিআইডির নোয়াখালী জেলা ইউনিট ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর হলে তদন্তভার গ্রহণ করা হয়। আবু তালেব বলেন, তদন্তে গ্রেপ্তার তিন আসামির দেওয়া তথ্য ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের অস্তিত্বের তথ্য পাওয়া যায়। চক্রের সদস্যরা অর্থের বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ করে বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রকৃত প্রার্থীদের পরিবর্তে অংশগ্রহণ করাতেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা সরকারি চাকরির নিয়োগে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। বিজ্ঞাপন তিনি বলেন, তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুলাই পৃথক অভিযানে নুরন্নবী ও মো. সোহেলকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কর অঞ্চল-২ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় জুলফিকার আলী ওরফে রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডি জানায়, এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সিআইডির অভিযান চলমান রয়েছে।

দৈনিক রুপান্তর

 

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত