রাজধানীতে ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাউথইস্ট ব্যাংকের সহকারী পিয়ন শামসুল হকের বিরুদ্ধে। তিনি বিভিন্ন ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ধানমন্ডি-২৭ শাখায় চাকরির সুবাদে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে পরিচিতি গড়ে তুলে তিনি নিজেকে বিভিন্ন ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। এভাবে প্রায় দুই বছর আগে এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে পিয়নের চাকরি দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নেন। টাকা নেওয়ার সময় তিনি নিজের ব্যাংক হিসাবের একটি চেকও দেন এবং চাকরি না হলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, দুই বছর পার হয়ে গেলেও তিনি চাকরি পাননি, এমনকি টাকাও ফেরত পাননি। বর্তমানে তিনি চেক হাতে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরছেন।
জানা গেছে, মতিঝিলে সাউথইস্ট ব্যাংকের হেড অফিসের কাছে একটি ক্যাফেতে বসে শামসুল হক ওই ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে টাকা ফেরতের জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। কখনও বলেন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এক ম্যানেজার তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, কিন্তু এখনও ফেরত দেননি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বলেন, “আমি তাকে বিশ্বাস করে চাকরির আশায় টাকা দিয়েছিলাম। এখন তিনি চাকরিও দিচ্ছেন না, আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। আমি যাকে টাকা দিয়েছি তিনি শামসুল হক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তাকে আমি চিনি না।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় শামসুল হক ধানমন্ডির সোবহানবাগ মসজিদের সামনে মিরপুর রোডের শুক্রাবাদ প্রথম গলিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। ওই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তি তাকে খুঁজতে সেখানে আসতেন। পরে স্থানীয়দের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চাকরি দেওয়ার নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে শামসুল হকের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অভিযোগ ছিল। তারা সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, অভিযোগ রয়েছে যে শামসুল হক বিভিন্ন সময় প্রয়াত রাজনীতিবিদ জয়নাল হাজারী-এর নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জয়নাল হাজারীর সঙ্গে তার একাধিক ছবিও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে শামসুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার একাধিক প্রমাণ রয়েছে এই প্রতিনিধির হাতে।

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন