ঢাকা   শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক রুপান্তর

স্বর্ণে পাগল দর্শনার পাচারকারীরা

কলকাতার নিউটাউনে বসে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে পরিতোষ ও তোতা

কলকাতার নিউটাউনে বসে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে পরিতোষ ও তোতা

সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ১০ পিস স্বর্ণের বারসহ বিজিবির হাতে আটক হয়েছেন মোঃ আলম খান নামের এক পাচারকারী। আটক আলম মোবারক পাড়ার মৃত বাদল খানের ছেলে। সীমান্ত লাগোয়া দর্শনার বিভিন্ন রুট দিয়ে নিয়মিত স্বর্ণ ও মাদক পাচারের অভিযোগ থাকলেও আলম আটকের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে এই চক্রের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। স্থানীয়দের দাবি, এই পাচার চক্রের নেপথ্যে তোতা ও রাজবাড়ী সদর এলাকার পরিতোষ নামের এক ব্যবসায়ী জড়িত। চক্রটি এতটাই প্রভাবশালী যে, কলকাতার নিউ টাউনে বাড়ি করে সুবিধাজনক সময়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দুই দেশের পাচার নিয়ন্ত্রণ করছে তারা।

গ্রেফতার হওয়া আলম পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার। দীর্ঘদিন তিনি ও তার সহোদর পিন্টু স্থানীয় ইসলাম বাজারের মনি নামের এক ব্যক্তির ট্রাক চালাতেন। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাকের ভেতরে বিশেষ চেম্বার তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ পরিবহন করে আসছিলেন তারা। এর আগেও একাধিকবার গ্রেফতার হলেও রাজনৈতিক লবিং ও তদবিরের মাধ্যমে দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার রেকর্ড রয়েছে আলমের বিরুদ্ধে। গত ১৩ই এপ্রিল বারা দি এলাকা থেকে ৪টি স্বর্ণের বারসহ শ্রী সমর হালদার নামে আরও এক চোরাকারবারী আটক হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দর্শনা পৌর এলাকার মোবারক পাড়াতেই রয়েছে পাচার চক্রের একাধিক মূল হোতা। পাচার মামলার আসামি মান্নান, তোতা, নফর, কালু ও সাঈদসহ বেশ কয়েকজন সরাসরি স্বর্ণ চোরাকারবারে জড়িত। আলমের সহযোগী হিসেবে শ্যামপুর এলাকার ভাগ্নে জাহিদুল ইসলাম ও ভাইরা ভাই আবু বক্কর দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। পারকৃষ্ট-মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক আলমের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ জমি ও লক্ষাধিক টাকার মালিক বনে গেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, স্বর্ণ পাচারের বিনিময়ে ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্রের চালান দেশে আসছে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের নীরবতা কিংবা বিশেষ ব্যবস্থায় 'ম্যানেজ' হয়ে চলার কারণে মূল অপরাধীরা সবসময় আড়ালে থেকে যায়। মাঝেমধ্যে বাহক ধরা পড়লেও বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে ঘটনার ধামাচাপা দেওয়া হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে আসল অপরাধীদের রক্ষায় মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালান বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রুপান্তর

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


কলকাতার নিউটাউনে বসে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে পরিতোষ ও তোতা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ১০ পিস স্বর্ণের বারসহ বিজিবির হাতে আটক হয়েছেন মোঃ আলম খান নামের এক পাচারকারী। আটক আলম মোবারক পাড়ার মৃত বাদল খানের ছেলে। সীমান্ত লাগোয়া দর্শনার বিভিন্ন রুট দিয়ে নিয়মিত স্বর্ণ ও মাদক পাচারের অভিযোগ থাকলেও আলম আটকের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে এই চক্রের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। স্থানীয়দের দাবি, এই পাচার চক্রের নেপথ্যে তোতা ও রাজবাড়ী সদর এলাকার পরিতোষ নামের এক ব্যবসায়ী জড়িত। চক্রটি এতটাই প্রভাবশালী যে, কলকাতার নিউ টাউনে বাড়ি করে সুবিধাজনক সময়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দুই দেশের পাচার নিয়ন্ত্রণ করছে তারা।গ্রেফতার হওয়া আলম পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার। দীর্ঘদিন তিনি ও তার সহোদর পিন্টু স্থানীয় ইসলাম বাজারের মনি নামের এক ব্যক্তির ট্রাক চালাতেন। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাকের ভেতরে বিশেষ চেম্বার তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ পরিবহন করে আসছিলেন তারা। এর আগেও একাধিকবার গ্রেফতার হলেও রাজনৈতিক লবিং ও তদবিরের মাধ্যমে দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার রেকর্ড রয়েছে আলমের বিরুদ্ধে। গত ১৩ই এপ্রিল বারা দি এলাকা থেকে ৪টি স্বর্ণের বারসহ শ্রী সমর হালদার নামে আরও এক চোরাকারবারী আটক হয়।অনুসন্ধানে জানা যায়, দর্শনা পৌর এলাকার মোবারক পাড়াতেই রয়েছে পাচার চক্রের একাধিক মূল হোতা। পাচার মামলার আসামি মান্নান, তোতা, নফর, কালু ও সাঈদসহ বেশ কয়েকজন সরাসরি স্বর্ণ চোরাকারবারে জড়িত। আলমের সহযোগী হিসেবে শ্যামপুর এলাকার ভাগ্নে জাহিদুল ইসলাম ও ভাইরা ভাই আবু বক্কর দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। পারকৃষ্ট-মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক আলমের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ জমি ও লক্ষাধিক টাকার মালিক বনে গেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।এলাকাবাসীর দাবি, স্বর্ণ পাচারের বিনিময়ে ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্রের চালান দেশে আসছে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের নীরবতা কিংবা বিশেষ ব্যবস্থায় 'ম্যানেজ' হয়ে চলার কারণে মূল অপরাধীরা সবসময় আড়ালে থেকে যায়। মাঝেমধ্যে বাহক ধরা পড়লেও বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে ঘটনার ধামাচাপা দেওয়া হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে আসল অপরাধীদের রক্ষায় মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালান বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

দৈনিক রুপান্তর

 

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত