প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের প্রকল্পের টাকা হরিলুট
নিজস্ব প্রতিবেদক: ||
কুড়ালগাছি
ইউনিয়ন পরিষদ সম্প্রতি ২নং ওয়ার্ড চন্ডিপুর
গ্রামে আসাদুল এর বাড়ি হতে
মোকছেদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্ত করন প্রকল্প হাতে
নেই । ইউনিয়ন পরিষদ
সূত্রে জানা যায় এই
প্রকল্পটি এলজিএসপি ফান্ডের। এ প্রকল্পের বরাদ্দ
ছিল ১ লাখ ২২
হাজার টাকা। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য
ছিল অর্ধেক পুরাতন রাস্তার সাথে আরো ১৭০
মিটার নতুন রাস্তা তৈরি
করা এবং পুরাতন রাস্তার
ইট উঠায়ে বালু দিয়ে উঁচু
করে পুনরায় রাস্তা তৈরি করা। এই
প্রকল্পের পিআইসি সভাপতি হন ২ নং
ওয়ার্ডের মেম্বার আবু সিদ্দিক তিনি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওই ওয়ার্ডের সভাপতি
। সরজমিনে দেখা যায় এই
রাস্তাটিতে ৫০০ থেকে ১০০০
নতুন ইট বসিয়ে পুরাতন
রাস্তাসহ সম্পূর্ণ রাস্তার উপরেই বালু ছিটিয়ে কাজ
সম্পূর্ণ দেখিয়েছেন। এবং এই রাস্তাটি
দুই তিন সাইডে যে
ভাঙা আছে সেই ভাঙ্গা
অংশও মেরামত করা হয়নি। কিন্তু
এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল এই রাস্তাটি
বর্ষার মৌসুমে পানিতে তলিয়ে এই এলাকার লোকজনের
যাতায়াতের অসুবিধা হয় এজন্যই এই
রাস্তাটি বালু দিয়ে উঁচু
করার। কিন্তু তার কোনোটিই করা
হয়নি যা দেখে মনে
হচ্ছে রীতিমতো সাগর চুরি। এই
প্রকল্পটির টাকা আত্মসাৎ করেছেন
আবু সিদ্দিক মেম্বার। প্রকল্পের কাজের অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় লোকজনের কাছে জানতে চাইলে
তারা বলেন এই রাস্তা
তৈরির জন্য যে ১লাখ
২২ হাজার টাকা খরচ দেখানো
হয়েছে সেই টাকাটা তিনি
কোথায় খরচ করেছেন এতটুকু
কাজ করে কিভাবে এত
টাকা খরচ হয়। স্থানীয়রা
আরো বলেন কাজ চলাকালীন
সময়ে আমরা প্রতিবাদ করলে
আবু সিদ্দিক মেম্বার সবাইকে গালি দেই এবং
হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে এবং কারো
কথা তোয়াক্কা না করেই কাজ
সম্পন্ন করে। কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন
পরিষদে এই প্রকল্পের বিষয়ে
খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই
প্রকল্পের বরাদ্দের সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করা
হয়েছে ।অনুসন্ধানে
জানা যায় কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন
পরিষদের মেম্বার মোঃ আবু সিদ্দিক
দীর্ঘদিন পরিষদে অনুপস্থিত থাকেন কিন্তু ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
কামাল হোসেন বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে ইউনিয়নের হাজিরা খাতা তার বাড়িতে
পাঠিয়ে সিগনেচার নিয়ে আসেন এবং তাকে
উপস্থিত দেখান। তিনি অনুপস্থিত থাকলেও
তার নামে প্রকল্প বরাদ্দ
হয় এবং সেই প্রকল্পের
টাকা উঠানোর জন্য তিনি নিজে
যান না। এই প্রকল্পের
টাকা উত্তোলনের জন্য তিনি নিজে
না যেয়ে চন্ডিপুর গ্রামের হায়দার নামে এক ব্যক্তিকে
পাঠান এবং কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন
পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন এই প্রকল্পের টাকা
হায়দারের হাতে দেন। এবং
হায়দার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টাকা নিয়ে
মেম্বার আবু সিদ্দিকের কাছে
পৌঁছায় দিয়েছিলেন। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার পতনের
পরও সেই দলের একজন
পদধারী নেতা এবং আওয়ামী
লীগ সমর্থিত একজন মেম্বার এখনো
এত দাপটের সহিত চলছে। এ বিষয়ে জানতে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার
চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি।
এবং তার মুঠোফোনে বারবার
ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ
করেননি।অনুসন্ধানে
আরও জানা যায় কার্যক্রম
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রদ্রোহী যে সকল কার্যক্রম
ওই এলাকায় চলছে তার সম্পূর্ণ
আর্থিক এবং সার্বিক সহযোগিতায়
রয়েছেন এ মেম্বার এবং
চেয়ারম্যানরা। সম্প্রতি কুড়ুলগাছি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সময় দর্শনা থানা
পুলিশ জয় বাংলা লেখা
একটি সক্রিয় বোমা উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন বলেন আমি এক
সপ্তাহ হল এই উপজেলাতে
এসেছি ।আসলে আমি এ বিষয়
জানি না যেহেতু আপনি
বললেন আমি এই বিষয়ে
অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত