প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
ফুটপাত দখল,শ্রমিক দলের নাম বিক্রি করে হচ্ছে চাঁদাবাজি
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ফুটপাত দখল করে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বসিলা রোডের তিন রাস্তার মোড় থেকে আল্লাহ করিম মসজিদ পর্যন্ত, শিয়া মসজিদ থেকে শ্যামলী, টাউন হল এবং রায়েরবাজার এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের পাশে অসংখ্য অস্থায়ী দোকান বসিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত রয়েছে কথিত শ্রমিক দল নেতা বাদল শরিফ ও তার কয়েকজন চাঁদাবাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, আল্লাহ করিম মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩০০টি অস্থায়ী দোকান রয়েছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন দোকানভেদে ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অর্থ সংগ্রহে বাদল শরিফ ওরফে "কাইল্ল্যা বাদল"-এর সহযোগী হিসেবে মামুন, রাসেল, সোহেল ও রিংকুসহ কয়েকজন কাজ করেন।কয়েকজন দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগে এই এলাকা থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চাঁদা আদায় করতেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন একটি চক্র ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একইভাবে অর্থ আদায় করছে বলে তাদের অভিযোগ। চাঁদাবাজির কয়েকটি ভিডিও সরবরাহ করে কয়েকজন দোকানদার। যা তথ্য প্রমাণ হিসেবে রয়েছে এই প্রতিনিধির হাতে।দোকানদারদের দাবি, বাদল শরিফ ও মামুন অতীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তারা আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরা কিছুতেই থামছে না। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বাদল নিজেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও তিনি বর্তমান বা অতীতের কোনো কমিটিতে ছিলেন না।মোহাম্মদপুর থানা শ্রমিক দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাদল শরিফ কখনো বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের নিয়মিত রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলো না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি শ্রমিক দলের পরিচয় ব্যবহার করছেন বলে তারা দাবি করেন। আর এই নামের উপর প্রতিদিন ফুটপাত থেকে তার লোক মামুনসহ বেশ কয়েকজনে চাঁদা তুলে।এদিকে, মোহাম্মদপুর থানা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি আলী কায়সার পিন্টুর সঙ্গে বাদলের সম্পৃক্ততা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে আলী কায়সার পিন্টুর নাম বলেই সব যায়গায় শ্রমিক দল ৩৩ নং ওয়ার্ড নেতা পরিচয় দেয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এই চক্র ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশেষ করে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর এলাকার পাপ্পু ও কালা বাদল ওরফে কিলার (বাদলের) নাম বিক্রি করে এই চাঁদার টাকা উত্তলন করে কথিত শ্রমিক দল নেতা বাদল শরিফ। তাদের দাবি, বসিলা রোড এলাকা থেকেই প্রতি মাসে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আদায় করা হয়। তবে এই অর্থ কোথায় যায় বা কার কাছে পৌঁছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাদল শরিফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় দৈনিক ও বেসরকারি টেলিভিশনে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও তারা এখনো স্থায়ী কোনো প্রতিকার পাননি। তারা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আর তা না হলে তারা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবেন।এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, বাদল শরিফের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি সরাসরি ফুটপাতে অবস্থান না করলেও তার সহযোগীদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত ফুটপাতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।শ্রমিক দলের নাম বিক্রি করে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, অনেকেই বিভিন্ন দলের নাম বলে, তবে অনেক সময় যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয় না, আজকে যেহেতু জানলাম, শ্রমিক দলের নেতাদের কাছে জেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত