প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনের সময়সূচি ঘোষণা করল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য, জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। পবিত্র মহররম মাসের প্রথম ১০ দিন তথা আশুরার শোক পালন শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘মেহের নিউজ’ এক প্রতিবেদনে জানায়, খামেনির স্মরণসভা আয়োজনে গঠিত বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি মঙ্গলবার তাদের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে সাবেক সর্বোচ্চ নেতার জানাজা, দাফন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্মরণসভার প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। স্মরণসভা কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইমাম হুসাইনের (আ.) প্রতি শহীদ নেতার দীর্ঘদিনের ধর্মীয় অঙ্গীকার এবং শোকানুষ্ঠান পালনের প্রতি সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, মহররমের প্রথম ১০ দিন শেষ হওয়ার পর তাঁর জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খামেনির দাফনের সময় ও বিবরণ নিয়ে প্রচারিত নানা ‘যাচাইবিহীন’ ও ‘মনগড়া’ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র সতর্কবার্তা জারি করেছে ইরান। কমিটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এ ধরনের ভিত্তিহীন ও অসত্য তথ্য ঐতিহাসিক এই শেষকৃত্য সমাবেশে যোগ দিতে ইচ্ছুক লাখ লাখ অনুসারীর মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এর আগে তেহরানের ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদের প্রধান মহসেন মাহমুদ বলেছিলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা এমন একটি বৈশ্বিক আয়োজন হতে যাচ্ছে, যা ইরান ও সমগ্র ইসলামি বিশ্বের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে। ইতোমধ্যে ইরাকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এই ঐতিহাসিক জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য মানুষের নিবন্ধন ও প্রস্তুতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।কমিটি আরও জানিয়েছে, দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই বিশাল জনসমুদ্রের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সেবা নিশ্চিত করতে ইরানের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। চূড়ান্ত লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করে অনুষ্ঠানের বিস্তারিত বিবরণ পরবর্তী সময়ে দেশবাসীকে জানানো হবে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলা শুরুর দিকে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। ১৯৮৯ সালে ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৬ বছর ৬ মাস ধরে সফলতার সাথে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতার পদে আসীন ছিলেন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত