প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
বর্জন ভেবে ফেলে না দিয়ে ৫ ধরনের ফলের বিভিন্ন অংশ লাগান নানা কাজে
রূপান্তর ডেক্স ||
পুষ্টিবিদদের মতে, অনেক ফলের খোসা ও বীজে ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং বিভিন্ন খনিজ থাকে। তাই সঠিক ভাবে ব্যবহার করলে অপচয় কমে এবং রান্নাতেও নতুন স্বাদ যোগ হয়।ফলের খোসার নানা ব্যবহার।গ্রীষ্মে জলপূর্ণ ফল খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। অন্ত্রেক স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে শরীরে জলের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য বাড়িতে নিয়মিত নানা ধরনের ফল আনা হয়। তবে ফল খাওয়া যত বাড়ে, পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ফলের খোসা আর বীজের স্তূপ। বেশির ভাগ সময়েই এগুলি সরাসরি ময়লার বালতিতে জায়গা নেয়। কিন্তু ফলের যে অংশ আবর্জনা ভেবে ফেলে দিচ্ছেন, তার মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে ব্যবহারের একাধিক সম্ভাবনা। রান্নাঘরের অপচয় কমানোর ভাবনা এখন নতুন করে জনপ্রিয় হচ্ছে সমাজমাধ্যমে।পুষ্টিবিদদের মতে, অনেক ফলের খোসা ও বীজে ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং বিভিন্ন খনিজ থাকে। তাই সঠিক ভাবে ব্যবহার করলে অপচয় কমে এবং রান্নাতেও নতুন স্বাদ যোগ হয়।কোন ফলের খোসা কী ভাবে ব্যবহার করবেন?১. তরমুজের খোসা দিয়ে তরকারিতরমুজের সাদা অংশ অনেকেই ফেলে দেন। অথচ এই অংশ দিয়ে ডালনা বা আলু দিয়ে তরকারির মতো পদ তৈরি করা যায়। হালকা মশলা দিয়ে রান্না করলে এর স্বাদ অনেকটা লাউয়ের মতো লাগে বলে মনে করেন অনেকে। গরমে হালকা কোনও তরকারি ভাত দিয়ে মেখে খেতে চাইলে, তরমুজের খোসা উপযুক্ত। তবে রান্নার আগে বাইরের সবুজ অংশটি ছুলে ফেলে দিতে হবে। তার পর সাদা অংশটি ডুমো ডুমো করে কেটে নিতে হবে। তার পর সাধারণ তরকারির মতো রান্না করতে নিতে হবে।২. ফুটির বীজ দিয়ে স্ন্যাক্সফুটির বীজ ধুয়ে শুকিয়ে নিন। তার পর অল্প ঘিয়ে হালকা ভেজে নিলে তা স্বাস্থ্যকর ও মুখরোচক স্ন্যাক্স হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। ভাজার সময়ে তার মধ্যে যদি রোস্ট করা জিরেগুঁড়ো, বিটনুন ও চাটমশলা মিশিয়ে নেন, তা হলে তা আরও বেশি সুস্বাদু হতে পারে। অনেকে আবার এই বীজগুলিকে স্যালাড বা দইয়ের উপর ছড়িয়ে খান।৩. আনারসের খোসা দিয়ে পানীয়আনারস, তরমুজ বা লেবুর খোসা অথবা ফেলে দেওয়া অংশ দিয়ে সিরাপ তৈরি করা যায়। জলের মধ্যে সেই খোসাগুলি, চিনি, পুদিনা, বিটনুন এবং অল্প লেবুর রস মিশিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। সেই সিরাপ দিয়ে প্রাণজুড়োনো পানীয় তৈরি করা যায়। গরমের সময়ে এতে চুমুক দিলে শরীরে আরাম মিলতে পারে।৪. আপেলের খোসা দিয়ে ভিনিগারআপেল, নাসপাতি, আনারস বা বেরির মতো ফলের খোসা ফেলে না দিয়ে রান্নাঘরের বিশেষ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি বড় কাচের শিশিতে জল এবং চিনি সমেত খোসাগুলি ভরে রাখতে হবে। সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে সেই খোসা মজে গিয়ে ভিনিগারে পরিণত হবে। আর স্যালাডের মতো খাবারের উপর এই ভিনিগার ছড়িয়ে খেতে পারেন। তা ছাড়া বাড়ি পরিষ্কারের ক্ষেত্রেও এই ভিনিগার কাজে লাগতে পারে।৫. লেবুর খোসা দিয়ে পাউডারলেবুর মতো সাইট্রাস জাতীয় ফলের খোসা ও বীজ বা ফেলে দেওয়া অংশ রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে রেখে দিতে পারেন। এই গুঁড়ো চা, কেক বা রকমারি মিষ্টি পদে স্বাদবৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করতে পারেন। কেউ আবার তা ঘরের সুগন্ধি হিসেবেও স্প্রে বোতলে ভরে নেন জলের সঙ্গে।Advertisementতবে ফলের খোসা বা বীজ ব্যবহার করার আগে ভাল করে ধুয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ, অনেক সময়ে খোসার উপর রাসায়নিক বা ময়লা থাকতে পারে। সম্ভব হলে জৈব চাষের ফল ব্যবহার করাই ভাল।সমাজমাধ্যমেও এখন অপচয়হীন রান্না নিয়ে নতুন উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। কেউ তরমুজের খোসার তরকারি বানাচ্ছেন, কেউ কমলালেবুর খোসা দিয়ে সুগন্ধি মোমবাতি, কেউ আবার ফলের বীজ শুকিয়ে সংরক্ষণ করছেন। আগে যে জিনিস ফেলে দেওয়া হত, এখন সেটিই নতুন ভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত